আমার দেখা সায়েন্স ফিকশন মুভিগুলোর মাঝে সবচেয়ে বেশি রোমাঞ্চকর মনে হয়েছে যেটি তা হচ্ছে "ভূমণ্ডলের কেন্দ্রে যাত্রা" বা "Journey to the center of the আর্থ(2008)" ৷ সিনেমার নামটিই আমাদের আভাস দেয় যে সিনেমাটি কতটা রোমাঞ্চকর হতে পারে ৷ সিনেমার প্লট, ভিজ্যুয়াল ইফেক্টস সবকিছু মিলিয়ে এই সিনেমার জুড়ি নেই ৷ আজ আপনাদের এই সিনেমা সম্পর্কে একটু বাস্তব পর্যালোচনা জানাবো ৷ বিখ্যাত ঔপন্যাসিক জুলস ভার্নেস এর রচিত বৈজ্ঞানিক কল্পকাহিনী বা সায়েন্স ফিকশন "Journey to the center of the আর্থ(2008)" এর ভিত্তি করে সিনেমাটি নির্মাণ করা হয়েছে ৷ বিখ্যাত এই মুভিটি পরিচালনা করেছেন এরিক ব্রেভিগ (Eric Brevig)৷
![]() |
| চিত্র: journey to the centre of the earth |
2008 সালে মুক্তিপ্রাপ্ত এই সিনেমায় অভিনয় করেছে
Brendan Fraser(নায়ক), Josh Hutcherson (শিশু শিল্পী), Anita Briem (নায়িকা) ৷ পরিবার সমেত দেখার মত সিনেমাটি বৈজ্ঞানিক কল্প কাহিনী, দু:সাহসিক অভিযান, রোমাঞ্চ, মজাদার ও আনন্দদায়ক দৃশ্যে ভরপুর৷ চলুন তাহলে সিনেমার প্লট একটু বুঝিয়ে দেয়
মুভি প্লট :
গল্পটি ট্রেভর এন্ডারসনকে ঘিরে আবর্তিত হয়েছে ৷ ট্রেভর এন্ডারসন একজন ভূতাত্ত্বিক যিনি তার ভাই ম্যাক্সকে হারিয়ে আমেরিকায় বসবাস করছে ৷ তার ভাই 1997 সালে কোনো এক বৈজ্ঞানিক অভিযানে গিয়ে নিখুঁজ হয়েছিলেন ৷ একদিন তার কিশোর ভাতিজা, শন, তার বাসায় বেড়াতে আসে এবং ম্যাক্সের জিনিসপত্র বাছাই করার সময়, তারা জুলেস ভার্নের রচিত "জার্নি টু দ্য সেন্টার অফ দ্য আর্থ" এর একটি কপিতে হোঁচট খায়। বইটির ভিতরে, তারা ম্যাক্সের কিছু নোট খুঁজে পায়, যেটিতে আইসল্যান্ডীয় আগ্নেয়গিরি, স্নেফেলসজোকুলের মধ্য দিয়ে পৃথিবীর মূল অংশে যাওয়ার বিষয়ে যুগান্তকারী তত্ত্ব রয়েছে। এরপর ট্রেভর ও তার ভাতিজা শন, ম্যাক্সের নিখুঁজ হওয়ার ব্যাপারটি উদঘাটন করা এবং ট্রেভরের ল্যাবে করা তত্ত্বগুলিকে সঠিক প্রমাণ করার জন্য আইসল্যান্ড দ্বীপে একটি রোমাঞ্চকর যাত্রা শুরুর সিদ্ধান্ত নেয় । তারা আইসল্যান্ডে গিয়ে একজন পর্বত গাইড "হান্না অ্যাসগিরসনের" সাথে দেখা করে, যিনি তাদের আগ্নেয়গিরির দিকে নিয়ে যাওয়ার প্রস্তাব দেয়।
এরপর কাহিনীর শুরু ৷৷ তারা দূর্ঘটনাক্রমে একটি আগ্নেয়গিরির টিউব দিয়ে পৃথিবীর গভীরে প্রবেশ করে ৷ তারা বিভিন্ন বাধা, প্রাগৈতিহাসিক প্রাণী (যে,অন পাখি, মাছ, ডাইনোসর যা বর্তমান পৃথিবীতে বিলুপ্ত )এবং দর্শনীয় বিভিন্ন দিগন্তের সম্মুখীন হয়। অবাক করা ব্যাপার হলো তারা সেখানে ম্যাক্স এর কবর ও জিনিসপত্র খুঁজে পায়৷ তারা নিশ্চিত হয় যে, ম্যাক্স 1997 সালে এই মৃত আগ্নেয়গিরিতে অভিযানে এসে ডাইনোসরের আঘাতে মারা যায় যা পৃথিবীর একেবারে কেন্দ্রে অবস্থিত ৷
এরপর ট্রেভর, শন, হান্না পৃথিবী পৃষ্ঠে ফিরে আসার পথ খুঁজতে থাকে ৷ নানা রকম দু:সাহসিক প্রচেষ্টা করতে থাকে৷ কিন্তু পৃথিবীর কেন্দ্র থেকে বেরিয়ে আসা কি এতই সহজ ছিল ? নানা ঘাত প্রতিঘাত মোকাবেলা করে তারা অবশেষে ইতালির ভিসুভিয়াস আগ্নেয়গিরির জ্বালামুখ দিয়ে বেরিয়ে আসতে সক্ষম হয় ৷
সিনেমার চরিত্র বর্ণন:
ট্রেভর অ্যান্ডারসন (ব্রেন্ডন ফ্রেজার): ট্রেভর সিনেমাটির কেন্দ্রীয় চরিত্র, একজন মনোযোগী ভূতত্ত্ববিদ যিনি প্রাথমিকভাবে তার প্রয়াত নিখুঁজ ভাইয়ের সাথে সংযোগ স্থাপন এবং তার তত্ত্বগুলিকে সত্য প্রমাণ করার নানা উপায় সন্ধান করতে থাকে ৷ তিনি গল্পে হাস্যরস এবং উষ্ণতা নিয়ে আসেন।
শন অ্যান্ডারসন (জোশ হাচারসন):
শন হলেন ট্রেভরের কিশোর ভাতিজা, সন্দেহপ্রবণ কিন্তু কৌতূহলী, যিনি একজন অনিচ্ছুক অভিযাত্রী থেকে একজন উত্সাহী অভিযাত্রীতে পরিণত হন।
হ্যানা অ্যাসগিরসন (অনিতা ব্রিম):
হান্না হলেন সম্পদশালী এবং পর্বত গাইড নারী ট্রেভরদের অভিযানে যোগ দেন । তিনিই মূলত এক কল্প কাহিনীর নায়িকা ৷ পৃথিবীর কেন্দ্র থেকে বেরিয়ে আসতে তার নানান বুদ্ধিবৃত্তিক প্রচেষ্টা তাকে অন্যান্য চরিত্র থেকে পৃথক করে ৷
সিনেমার হৃৎপিন্ড হচ্ছে পৃথিবীর হাজার হাজার কিলোমিটার অভ্যন্তরে নেমে এসে মানুষের নানান দু:সাহসিক ও রোমাঞ্চকর কাজ ৷ মুভিতে ব্যবহৃত হয়েছে 3D প্রযুক্তি, টানটান উত্তেজনা যা মুভিটিকে মুক্তির সময় বিশেষভাবে নজর কেড়েছিল৷ একইসাথে সিনেমাটি দর্শকদের ধীরে ধীরে পৃথিবীর পৃষ্ঠের নীচের চমৎকার জগতে স্থানান্তরিত করেছিল৷ পৃথিবীর অভ্যন্তরে মাটি বা শিলার গঠন কেমন, কোন ধরনের রাসায়নিক দ্রব্য থাকে এইসব সামগ্রিক অভিজ্ঞতাকে দর্শকদের প্রদান করে থাকে ৷
যদিও এই 2023 সালে এসে প্রযুক্তি অনেক উন্নত, তবুও এই সিনেমা সেসময়কার প্রযুক্তি দিয়ে ভূগর্ভস্থ বিশ্বকে একটি জীবন্ত রূপ দেওয়ার প্রচেষ্টা ছিল যা মানুষকে বিস্ময়ের অনুভূতি প্রদান করেছিল৷
উপসংহার:
"জার্নি টু দ্য সেন্টার অফ দ্য আর্থ" (2008) হল একটি উপভোগ্য, পরিবার-বান্ধব অ্যাডভেঞ্চার যা সফলভাবে অ্যাকশন, হাস্যরস এবং 3D ইফেক্টস মিশ্রিত৷ এটি কার্যকরভাবে সব বয়সের দর্শকদের জন্য একটি বিনোদনমূলক সিনেমা হতে পারে। মুভিটি জুলস ভার্নের ক্লাসিকের চেতনার সঙ্গে সমসাময়িক টুইস্ট যোগ করে একটি সার্থক সিনেমায় রূপ দান করে৷ সিনেমাটি দুঃসাহসিক কাজ, যা বৈজ্ঞানিক নির্ভুলতার জন্য প্রচেষ্টা , অন্বেষণ, আবিষ্কার এবং অজানাকে জয় করার স্থায়ী মানবিক চেতনার সারমর্মকে ধারণ করে। যারা তাদের সিনেমাটিক অভিজ্ঞতায় অ্যাকশন এবং বিস্ময়ের মিশ্রন উপভোগ করেন তাদের জন্য এটি একটি অসাধারণ এডভেঞ্চায়ার মুভি।